পাঁচতারা হোটেলের ব্রেকফাস্টিং বা বাহারি আয়োজন একদিকে, আর এক সানকি পান্তার তৃপ্তি অন্যদিকে। এই বৈশাখে আভিজাত্য নয়, বরং পেঁয়াজ-মরিচের ঝাঁঝালো স্বাদে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যই হোক উদযাপনের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

পান্তা-মরিচেই আসুক বৈশাখ
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। মাটির বাসনে জল সিক্ত সাদা ভাত, পাশে ফালি করা ঝাল কাঁচা মরিচ, এক চিমটি লবণ আর লাল পেঁয়াজ ব্যস, বাঙালির নববর্ষের আহার সম্পন্ন! যান্ত্রিকতার ভিড়ে আমরা অনেক আধুনিক খাবার খেলেও বৈশাখের এই একটি দিনে আমরা ফিরে যাই মাটির কাছাকাছি।
পান্তা ভাতের সঙ্গে এই উপকরণগুলো কেন অপরিহার্য, তার রয়েছে চমৎকার কিছু কারণ:
পোড়া মরিচ ও কাঁচা মরিচ
পান্তার শীতল স্বাদের সঙ্গে কাঁচা মরিচের কামড় কিংবা শুকনো মরিচ পোড়ার ঘ্রাণ এক অন্যরকম রোমাঞ্চ তৈরি করে। ঝাল আর পান্তার জলীয় স্বাদের মেলবন্ধন জিভে জল আনতে বাধ্য।
কাঁচা পেঁয়াজ ও লবণ
পান্তা ভাতের প্রকৃত স্বাদ খুলে দেয় এক চিমটি লবণ আর কাঁচা পেঁয়াজের ঝাঁঝ। এটি কেবল স্বাদ বাড়ায় না, বরং গরমে শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।
মাটির সানকি
স্টিল বা সিরামিকের প্লেটের চেয়ে মাটির সানকিতে পান্তা খাওয়ার তৃপ্তিই আলাদা। এটি ঐতিহ্যের পূর্ণতা দান করে।
পান্তা, পেঁয়াজ, মরিচ আর লবণের মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আপনি চাইলে আপনার পান্তার থালাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন:
১. শুটকি ভর্তা: বিশেষ করে চেপা বা লইট্যা শুটকির ঝাল ভর্তা।
২. বেগুন ভাজা: মচমচে করে ভাজা গোল গোল বেগুন।
৩. আলু ভর্তা: খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে মাখানো আলু ভর্তা।
৪. ইলিশ ভাজা: বাঙালির বৈশাখী পান্তার সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী।
পান্তা ভাত তৈরির জন্য আগের রাতে চাল ভালো করে ধুয়ে ভাত রান্না করে নিন। ভাত ঠান্ডা হলে তাতে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে সারারাত ঢেকে রাখুন। পরদিন সকালে যখন ভাতের চাল হালকা নরম হয়ে আসবে, তখন সেটি হবে পান্তার জন্য একদম উপযুক্ত।

৩৭.৫৭°সে