তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

তামিল সুপারস্টার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন আর রাজনীতি এখন একই সুতোয় গাঁথা। তিরুনেলভেলি’র জনসভায় বিজয়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও, এবার সরাসরি বিরোধীদের ধুয়ে দিলেন এই 'টিভিকে' প্রধান।
রাজনীতির ময়দানে লড়াই হবে নীতি আর আদর্শ নিয়ে, কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন অন্দরমহলের বিবাদকে হাতিয়ার করে, তখন নীরবতা ভাঙাই শ্রেয়। ঠিক এই কাজটাই করলেন তামিল অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয়। তিরুনেলভেলি’র কেটিসি নগরে আয়োজিত বিশাল জনসভায় হাজার হাজার ভক্তের সামনে দাঁড়িয়ে বিজয় ইঙ্গিত দিলেন, তার ঘর ভাঙার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
বিজয় তার ভাষণে সরাসরি শাসক দল ডিএমকে’র বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে রুখতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা এখন তার ব্যক্তিগত জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিজয়ের ভাষায়, তারা আমার চারপাশের মানুষগুলোকে ব্যবহার করেছে। এতদিন পর নির্বাচনের মরসুমে তারা আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, কোনো শক্তিই আমাকে বা আমার এই আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজয়ের এই তীর সরাসরি ডিএমকে’র দিকে, যারা নাকি বিজয়ের পারিবারিক অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছে।
দীর্ঘ ২৭ বছর সংসার করার পর স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণলিঙ্গমের সাথে বিজয়ের বিচ্ছেদের খবরটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন, যা সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যায়। জনসভায় বিজয় সরাসরি সঙ্গীতার নাম না নিলেও, পারিবারিক সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে তা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তার ভক্তদের দাবি, বিজয় পরোক্ষভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের পিটিশন এবং সঙ্গীতার তোলা অভিযোগগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
বিজয় অভিযোগ করেন, ডিএমকে এবং বিজেপি বাইরে আলাদা দল হলেও ভেতরে ভেতরে তার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'জন নায়গন' আটকে দেওয়া থেকে শুরু করে জনসভার জন্য কঠোর এসওপি জারি করা, সবই ছিল তাকে আটকানোর ছক। বিজয় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, তারা আমার ছবি আটকেছিল, তাতে আমার কিছুই হয়নি। এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে আমাকে দমানোর চেষ্টা করছে, সেটিও ব্যর্থ হবে।
বিজয়ের এই 'সসি' বা ঝাঝালো বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তার ভক্তরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাদের প্রিয় 'থালাপথি'-র ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরা রাজনীতির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তারা। একদিকে ঘর ভাঙার যন্ত্রণা, অন্যদিকে রাজনীতির পিচ্ছিল পথ, বিজয় বুঝিয়ে দিলেন তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন।
বিজয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার রাজনৈতিক যাত্রা এখন আর কেবল শাসনের পরিবর্তন নয়, বরং নিজের আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইও বটে। আগামী নির্বাচনে এই পারিবারিক বিতর্ক ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।